
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
আসনের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ–তাড়াশ) আসনে ভোটের মাঠ যেন হঠাৎ করেই অসন্তুষ্টি হয়ে পড়েছে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটারদের একটি বড় অংশ।
জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রার্থী বাদ পড়ে হঠ্যাৎ করে অচেনা মুখকে জোট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে চারটি আসন জামায়াতকে দেওয়া হলেও সিরাজগঞ্জ-৩ আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে। জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরপরই এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় আলোচনা–সমালোচনা।
এই আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুর রউফের নাম ঘোষণা করা হয়। অথচ এর আগে প্রায় দেড় বছর ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর শায়েখ আলহাজ্ব ড. আব্দুস সামাদ। তাঁর নাম জোটের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা স্পষ্ট।
স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, জামায়াতের নিজস্ব পরিচিত প্রার্থী থাকলে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতো। কিন্তু জোটের অচেনা প্রার্থী নিয়ে ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে।
রায়গঞ্জ উপজেলার একাধিক ভোটার জানান, শক্ত ও পরিচিত প্রার্থী থাকলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠে। তাঁদের মতে, জামায়াত ও বিএনপি—দু’পক্ষই মাঠে সক্রিয় থাকলে ভোটারদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রতিযোগিতামূলক আবস্থা অনুপস্থিত। রায়গঞ্জ উপজেলার সলঙ্গা থানার ৩নং ধুবিল ইউনিয়ন আমশড়া গ্রামের ভোটার আব্দুল বারিকের ভাষ্য, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু দল নয়, প্রার্থীর স্থানীয় পরিচিতি, এবং শিক্ষিতোযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার মানুষের সঙ্গে যাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকে, উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে তাঁদের কাছ থেকেই বেশি প্রত্যাশা করা যায়।
উপজেলা ও ইউনিয়ন জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমর্থক জানান, ড. আব্দুস সামাদ ছিলেন এ আসনে দলের সবচেয়ে শক্ত ও সম্ভাবনাময় প্রার্থী। তাঁর পরিবর্তে ভিন্ন দলের প্রার্থী দেওয়ায় তৃণমূলে হতাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, জোটের প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হলে ভোটের সমীকরণ ভিন্ন হতে পারত।
তাঁরা আরও বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরই অনেক এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জোট প্রার্থী মাঠে তেমন শক্ত অবস্থানে নেই।
জামায়াত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর স্থানীয় সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল এবং অনেক ওয়ার্ডেই কার্যকর কমিটি নেই। ফলে ভোটারদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা সীমিত, এবং এ কারণেই নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দ ভিন্ন কথা বলছেন। তাঁদের দাবি, দলের প্রতিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মী ও সমর্থকেরা সক্রিয় রয়েছেন। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ১১ দলীয় জোটের পক্ষে তারা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
অন্যদিকে, বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এই আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ভিপি আয়নুল হককে। তিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সর্বদা মাঠে সক্রিয় থেকেছেন।
দলীয় নেতা-কর্মীদের ধারণা, একজন ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে সাবেক ভিপি আয়নুল হক ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লাভ করবেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
অন্যান্য দিকে জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ফজলুল হক মাঠে। তাদের নেতা কর্মীরা আশাবাদী বিজয়ী হবেন প্রত্যাশা তাদের।
বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক ও বা্ংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুল ইসলামের কাছে সিরাজগঞ্জ ৩ আসনে জামায়াত জোটে অপরিচিত প্রার্থী পরিবর্তনে প্রার্থনা করে সাধারণ মানুষেরা বলেন, আজ আপনাদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করছি আপনাদের হঠকারিতা সিদ্ধান্তে আমরা সীমাহীন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি একথ বলতে গেয়েও আমাদের হৃদয় কাপছে। আপনারা অবগতি আছেন, সিরাজগঞ্জ ৩ আসন ঐঐতিহাসিক ভাবে ধানের শীষের বাইরে এখানে কখনোই কেউ বিজয়ী হতে পারেনি – হাসিনার চুরি করা তিনটি নির্বাচন ব্যতীত। এই বাস্তবতার কারনেই এই এলাকার জামায়াত – শিবিরের নেতাকর্মীরা যুগের পর যুগ সীমাহীন জুলুম, নির্যান্ত ও ত্যাগস্বীকার করে এসেছে। তাদের আকুতি তারা দুই শির্ষনেতারা সামান্য ভূল বোঝা বুঝি করে পরাজেয়র পথ তৈরি করে দিবেন না। জামায়াতের যে প্রার্থী গত একবছর ধরে মাঠে থেকে মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তিনি ইনশাল্লাহ বিজয়ী হবেন – এ বিশ্বাস এই রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা আসনের মানুষদের রক্তে মিশে গিয়েছে।
আপনাদের প্রতি আগাধ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, দযা করে সিরাজগঞ্জ ৩ জনসাধারণ বাসির কান্নার জবাব দিন। এ অপরিচিত মুখ, প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আশা ও অশ্রুকে সম্মান করুন। আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই এর বিনিময়ে আপনাদের সম্মান আরো বহুগুণে বাড়িয়েদেবেন এই আশা ওদোয়া নিয়েই সিরাজগঞ্জ ৩ এর ব্যথিত, কিন্তু আশাবাদী জনগণ।