
সিরাজগঞ্জ থেকে ফারুক আহমেদঃ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ইরি-বোরো চাষে দলবেঁধে মাঠে নেমেছে কৃষক।দিনমজুর শ্রমিকরাও বসে না থেকে ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় কিছুদিন জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিলেও তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো মৌসুমের কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,সলঙ্গা থানার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,বন্যাকবলিত সরিষার আবাদি কিছু নিচু জমি ছাড়া প্রায় সর্বত্র ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ পুরোদমে চলছে।সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি এলাকায় আদিবাসী কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করছেন।
হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন জানান,“ইরি-বোরো মৌসুমে ধানের ন্যায্যমূল্য ও সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।”
ধুবিল ইউনিয়নের নইপাড়া গ্রামের কৃষক রহমত আলী, হায়দার , শ্যামিরঘন গ্রামের শ্রী শুকেস ও গনেশ বলেন,“ঘনঘন লোডশেডিং বন্ধ,সার ও কীটনাশকের সঠিক সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব।”
সলঙ্গা ইউনিয়নের চরবেড়া,জগজীবনপুর ও আঙ্গারু এলাকার কৃষকরাও জানান, কৃষিকাজে বিরতি মানেই পরিবার ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া।তারা বলেন,“মাঠের পর মাঠ ফসল না লাগালে মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে?প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে অল্পদিনের মধ্যেই চারদিকে সবুজ ধানক্ষেতের সমারোহ দেখা যাবে।”
ধুবিল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসিম ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান,উল্লাপাড়া উপজেলার সুযোগ্য কৃষি কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দিন-রাত কৃষকদের পাশে রয়েছি।তারা বলেন,“ল্যাক পদ্ধতি, লাইনে চারা রোপণ,সুষম সার ব্যবহার,সঠিক বয়সে চারা রোপণ,ভিজানো-শুকানো পদ্ধতি,মানসম্মত বীজ উৎপাদন,জৈব সার প্রস্তুত কারণ ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন পাওয়া সম্ভব।”
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমি জানান,চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য হারে জমিতে ইরি-বোরোর চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন,আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বিদ্যুৎ,সার সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে চলতি মৌসুমে সলঙ্গায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।