বিশেষ প্রতিবেদন:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রূপগঞ্জ এলাকাজুড়ে এক ব্যক্তিকে ঘিরে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার গুরুতর অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম রবি নামের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়াল থেকে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি নতুন নয়—বরং দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে এই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলার আছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে রূপগঞ্জ এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে বড় পরিসরের বাড়িঘর ও সম্পদ। অনেকেই মনে করছেন, এসব সম্পদের উৎস নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে রবিউল ইসলাম রবি নিজে সরাসরি সামনে না এসে আড়াল থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তার স্ত্রী লাকি এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সোনিয়া নামের এক সহযোগীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে এসেছে, যিনি মাদক সরবরাহ ও সমন্বয়ের কাজে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে অবৈধ অস্ত্রের অভিযোগ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র আরমানী সিক্স ফাইভ ৯ রাউন্ডের পিস্তল রয়েছে এবং তা ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন সচেতন নাগরিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,“আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়গুলো দেখে আসছি। কিন্তু ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায় না। দ্রুত তদন্ত না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়তে থাকলে তরুণ সমাজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা জরুরি। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা—সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আসবে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com