মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বালুচর বাজারের পশুর হাটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।এতে উভয় পক্ষের অন্তত এক ডজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৯টার দিকে বালুচর বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।গুরুতর আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে বাউল গ্রুপের ছামাদ বাউলের ছেলে শহীদ বাউল (৩৫),আকবর নগরের আরিফ হোসেন (৩৫),রহমানের ছেলে ওছমান গনি (২৫) এবং ইসলামের ছেলে ফারুক মুন্সি (৩০) রয়েছেন। অন্যদিকে সরকার গ্রুপের সুরুজ জামাল সরকারের ছেলে শাকিল সরকার (২৭), সিপন সরকার (৩২), সামিম সরকার (৩০), ফুলচাঁন সরকারের ছেলে হৃদয় সরকার (২৮), আমির হোসেন সরকারের ছেলে শরিফ সরকার (২৮), আসফাক সরকার (৩৮), আসলাম সরকার (৪০) এবং সিরাজুল সরকারের ছেলে রাজু সরকার (৩০) আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,তাদের মধ্যে কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৩ মে ও ২৬ মে বালুচর বাজারে গরু-ছাগলের হাট বসার কথা রয়েছে।এ হাটের ইজারা নিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান।
হাটকে সুষ্ঠু,নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইজারাদারের পক্ষ থেকে মো:মোক্তার হোসেন ও মো:শহীদ বাউলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।এ উপলক্ষে শুক্রবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বাসিন্দাদের নিয়ে হাট পরিচালনা কমিটির একটি সভার আয়োজন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সভা চলাকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মোল্লাকান্দি গ্রামের সরকার বাড়ি ও মুন্সিবাড়ি গ্রুপের লোকজন শহীদ বাউলের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি,হামলার সময় তাকে টেঁটা দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।পরে তার সমর্থকরা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওলান হোসেন বলেন,মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।কয়েকজন আহত হয়েছেন।বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
হাটের ইজারাদার মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান দাবি করেন, “বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।এর উদ্দেশ্য খামারি ও ক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা,যাতে হাটে বেচাকেনা ব্যাহত হয়।আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হাট পরিচালনা করতে চাই।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন,গরুর হাটের ইজারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com