উলিপুর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে কাঁচা সুপারি প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের নামে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন হাট-বাজার ও আড়ত থেকে কাঁচা সুপারি সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন উন্মুক্ত জলাশয় বা নর্দমার পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরে সুপারি বাজারজাতের সময় দুর্গন্ধ দূর করা, রং চকচকে করা এবং দীর্ঘদিন ভালো রাখার উদ্দেশ্যে ‘হাইড্রোস’সহ বিভিন্ন রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, উলিপুরের হাট-বাজার ও আড়ত থেকে প্রতি মৌসুমে বিপুল পরিমাণ কাঁচা সুপারি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বাজারে সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এর একটি অংশ রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে সুপারি ও পানসেবীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উলিপুরের মিনা বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পাইকারি সুপারি বাজার। বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা সুপারি এনে সেখানে দীর্ঘদিন পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে উন্মুক্ত জলাশয়েও সুপারি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে জলাশয়ের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে। পচা সুপারির দুর্গন্ধে আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, উত্তরাঞ্চলে শুকনা সুপারির তুলনায় পানিতে ভেজানো কাঁচা সুপারির চাহিদা বেশি। দামও তুলনামূলক কম হওয়ায় খুচরা ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সুপারি কিনতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন পানিতে রাখার কারণে সুপারিতে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলে তা দূর করতে কোনো কোনো ব্যবসায়ী রাসায়নিক ব্যবহার করেন বলে তারা জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস পানিতে ভেজানোর পর সুপারি তুলে পানি দিয়ে ধুয়ে আবারও রাসায়নিক প্রয়োগ করে বাজারজাত করা হয়। এতে সুপারি দেখতে আকর্ষণীয় হয় এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার প্রবণতাও কমে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা এসব সুপারি কিনে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান।
উলিপুর বাজারের কয়েকজন পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক পানসেবী কাঁচা সুপারি ও জর্দার সঙ্গে পান সেবন করেন। ফলে বাজারে চাহিদা থাকায় রাসায়নিক মিশ্রিত সুপারি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব রাসায়নিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অনেক বিক্রেতাই বিস্তারিত জানেন না বলে দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু তালিব (টিয়া) বলেন, ‘সুপারি ও পান এ অঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের সেবনের অংশ। সুপারিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা হলে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয়ে সুপারি ভিজিয়ে রাখার কারণে পানি ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান বাড়ানো দরকার।’
একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন এমন রাসায়নিকযুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ব্যবহৃত রাসায়নিকের ধরন, মাত্রা এবং সুপারিতে এর অবশিষ্টাংশের পরিমাণ পরীক্ষা ছাড়া নির্দিষ্ট রোগ বা ক্যানসারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা যায় না।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যপণ্যে অনুমোদনহীন রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা জরুরি। পরীক্ষায় ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ অভিযান যথেষ্ট নয়। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছেন। তারা দ্রুত সুপারি আড়ত ও বাজারগুলোতে অভিযান, সুপারির নমুনা পরীক্ষা এবং উন্মুক্ত জলাশয়ে সুপারি ভিজিয়ে রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com