মাহাবুব আলম তুষার ,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের শ্রীধরনগর এলাকায় কালীগঙ্গা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ড্রেজার ব্যবসায়ী লিমনের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন তিনি। রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ঘিওর উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি সানোয়ারের নিজ অর্থায়নে তৈরি দুটি মাটির ব্রেড দখল করে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাটি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ড্রেজার লিমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার পরিচালনার অভিযোগ থাকলেও এর আগে কার্যকর কোনো প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ড্রেজারের পাইপ ফসলি জমির ওপর দিয়ে নেওয়ার কারণে পাইপ থেকে বালু পড়ে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবৈধ ড্রেজার পরিচালনার ফলে বাসুদেববাড়ি বাজারসহ আশপাশের ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় নদীর তীর ভেঙে বাজার ও নদীর আশপাশের কৃষিজমি বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘিওর উপজেলা প্রশাসন তৎপর হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল ৩টার দিকে ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের শ্রীধরনগর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাশিতা-তুল ইসলামের সার্বিক নির্দেশনা ও সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ এবং ড্রেজার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, প্রশাসনের নিয়মিত তৎপরতা থাকলে অবৈধভাবে নদী ও কৃষিজমি থেকে বালু-মাটি উত্তোলনকারীদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com