স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ‘নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে একটি পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে বিল্লাল হোসেন (৬৫) নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং দুই কান কাটা থাকায় ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড-তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির পিপি স্টোর রুম থেকে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শনিবার রাতে বিল্লাল হোসেন কারখানায় নাইট শিফটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রবিবার ভোরে চটের বস্তার স্তূপের মধ্যে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশে খবর দেন।নিরাপত্তাকর্মীদের দাবি,রাতে কাজের একপর্যায়ে বস্তার স্তূপে ঘুমিয়ে পড়লে অসাবধানতাবশত কোনো যানবাহন তাঁর ওপর উঠে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে এ বক্তব্য নাকচ করে হত্যার অভিযোগ এনেছেন নিহতের স্বজনেরা। নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার জানান,সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এসে স্বামীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ও দুই কান কাটা দেখতে পান,যা স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। নিহতের জামাতা আবু মুসা অভিযোগ করেন,কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে নানা তালবাহানা করা হয় এবং বিষয়টি দুই লাখ টাকায় রফা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা আখ্যা দিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান সিরাজ।
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা সালাউদ্দিন জানান,তাঁরা স্বজন ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান,খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত সাপেক্ষেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com