মাহাবুব আলম তুষার,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি ল্যাব থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে ডোপ টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ল্যাব টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে।
২৭ সেপ্টেম্বর ( রবিবার) সকালে একটি ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর দেখে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়। এরপর থেকে সরকারি দপ্তরে ঘুরে একাধিক রিপোর্ট সংগ্রহ করে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই স্বাক্ষর নিজের নয় বলে জানান।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট দিচ্ছে প্যাথলজি ল্যাব থেকে । প্রতিটি রিপোর্টের একপাশে বর্তমান ল্যাব ইনর্চাজ মো আব্দুল কুদ্দুস এর স্বাক্ষর এবং অপর পাশে ডা. তাহমিনা নাজনীনকে বায়োকেমিস্ট বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করে তার স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ডা. তাহমিনা নাজনীন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ।
এ বিষয়ে ডা. তাহমিনা নাজনীন এর দেওয়া লিখিত বক্তব্য হুবাহু তুলে ধরা হল , “আমি ডা. তাহমিনা নাজনীন সহকারী অধ্যাপক (ফিজিওলজি) ইন-সিটু। গত ১০/১২/২০২৫ ইং হতে সহকারী অধ্যাপক পদে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে কর্মরত। এর আগে লেকচারার পদে কর্মরত ছিলাম। আমি কখনোই মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের ডোপ টেস্টের কোনো রিপোর্টে সাইন করিনাই। কারণ এটা আমার বিভাগের কোন কাজ না। যারা আমার ভূল এবং ভূয়া সিল, সাইন জালিয়াতি করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো শীঘ্রই।
বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসেবে আজমেরী আক্তার এবং ল্যাব ইনর্চাজ হিসেবে মো আব্দুল কুদ্দুস কর্মরত আছেন।
ডোপ টেস্টের রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে ল্যাব টেকনোলজিস্ট আজমেরী মুঠোফোনে জানান, "এ বিষয়ে আমি জানি না। আপনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।"
তবে ল্যাব ইনচার্জ মো আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্য জানতে বার বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয় টি সামনে আসার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করাতে বিভিন্ন ভাবে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজের চেষ্টা করেন তিনি।
মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মৃদুল কুমার সাহা বলেন, "প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসক নিজে স্বাক্ষর করার কথা। তবে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোন রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম এ বিষয়ে আমি খোঁজ নিব।"
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ এমন কোন কিছু আমার জানা নাই। এ বিষয়ে আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিব।”
উল্লেখ, ডোপ টেস্ট সাধারণত সরকারি কমকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগদান , পেশাদার গাড়ি চালক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদেশগমন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। তাই চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে এত গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম ।
তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে, কত বছর ধরে,কতগুলো রিপোর্টে এমন জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। আর সেই জালিয়াতি রিপোর্টে কার কার সরকারি চাকরি এবং পেশাদার গাড়ি চালক হিসেবে লাইসেন্স নিয়েছে তা খতিয়ে দেখা উচিৎ। সেই সাথে এমন অপরাধের সাথে আর কে কে জড়িত , তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি উঠেছে সচেতন মহলে ।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com