স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কের ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে পড়ছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক মাসও পার হয়নি, এরই মধ্যে ড্রেনের একাধিক স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় কাজ সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে।
সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মাদবর বাড়ি আরব আলীর বাড়ি থেকে স্টিমারঘাট হয়ে দয়াল বাজার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০ মিটার সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাদবর বাড়ি সেতু থেকে দয়াল বাজারের শেষ অংশ পর্যন্ত সড়কের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে নির্মিত অংশের কয়েকটি ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে পড়েছে। কিছু স্ল্যাবে দেখা দিয়েছে ফাটল। কাজ শেষ হওয়ার আগেই স্ল্যাবগুলো ভেঙে পড়ায় নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ হাজার ৪০ মিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯১ হাজার ৬১৫ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিক্সন ট্রেডিং করপোরেশন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করায় অল্প সময়ের মধ্যেই ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে পড়ছে। এতে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আল আমিন বলেন,নির্মাণকাজের সময় সিমেন্ট ও বালু ব্যবহারে নিয়ম মানা হয়নি।অনিয়ম করে কাজ করা হয়েছে বলে তাঁদের মনে হচ্ছে।এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিক্সন ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক আক্তারুজ্জামান বলেন,কাজ শেষ হওয়ার দুই দিন পর ইটবোঝাই একটি গাড়ি ড্রেনের ওপর দিয়ে যাওয়ায় একটি স্ল্যাব ভেঙে গেছে। তবে একটি স্ল্যাব ভাঙার কারণ ব্যাখ্যা করলেও অন্য স্ল্যাবগুলো কেন ভেঙেছে, সে প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন,সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ সঠিকভাবে সংশোধন করে দিতে হবে।
নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ড্রেনের স্ল্যাব ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও পরীক্ষায় নির্মাণে কোনো ত্রুটি বা অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের অপেক্ষা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com