মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি এলাকায় বিলের মধ্যে কৃষকদের নিরাপত্তা ও বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে বজ্রনিরোধক ছাউনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর দেওয়া ৩ লাখ টাকার বরাদ্দে শুরু হয়েছে এ উদ্যোগ। ছাউনিটি নির্মিত হলে প্রায় ৬ হাজার মানুষের শত বছরের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিলের মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি ও চলাচলের রাস্তা। প্রতিদিন এসব জমিতে কাজ করতে যান কৃষকেরা। কিন্তু বৃষ্টির সময় কিংবা হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হলে আশ্রয় নেওয়ার মতো নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা নেই। তীব্র গরমেও বিশ্রামের জায়গা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাঁদের। বজ্রনিরোধক ছাউনিটি নির্মিত হলে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় কৃষকেরা আশ্রয় নিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচণ্ড গরমে সেখানে বসে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।
তবে প্রস্তাবিত নির্মাণস্থলে সরকারি খাসজমিতে বসবাসকারী মো. হারুন আলীর স্থাপনা সরানো নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকারি খাসজমিতে আগে থেকেই টিনশেডের তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন হারুন আলী। কিন্তু সেখানে বজ্রনিরোধক ছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর তিনি নতুন করে ছাউনির নির্ধারিত জায়গায় টিন দিয়ে আরও একটি কক্ষ নির্মাণ করে জায়গাটি দখল করেন।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, বিষয়টি জানার পর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাঁকে নতুন স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরাও সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করে হারুন আলীকে তাঁর স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা সরিয়ে নেননি।
তাঁরা আরও জানান, নির্মাণকাজের জন্য প্রায় তিন মাস আগে থেকেই ওই স্থানে ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে রাখা হয়েছিল। একাধিকবার অনুরোধের পরও স্থাপনা সরানো না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীরা তাঁর মালামাল সরিয়ে নির্মাণকাজে সহযোগিতা করেন।
হাসাইগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় নয়। এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে বজ্রনিরোধক ছাউনি নির্মাণ করা হবে। সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিরাও জায়গাটি পরিদর্শন করেছেন এবং হারুন আলীকে তাঁর স্থাপনা ও মালামাল সরিয়ে নিতে বলেছেন। এলাকার মানুষের স্বার্থেই গ্রামবাসীরা জায়গাটি প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করেছেন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জালাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিনের নির্দেশনা ও উদ্যোগে জায়গাটি খালি করা হয়েছে। সেখানে এলাকার মানুষের কল্যাণে বজ্রনিরোধক ছাউনি নির্মাণ করা হবে।
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন অভিযোগ করেছেন হারুন আলী। তাঁর দাবি, গত ৩১ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর টিনের বেড়া ও ছাপড়ার ঘর ভেঙে মালামাল তছনছ করেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২ নভেম্বর নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগে সোহেল রানা, আশরাফুল ইসলাম সোনার, রিফাত ও কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হারুন আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূরুল আমিন বলেন, হারুন আলী তার বাড়িঘর ভাংচুরের একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বজ্রনিরোধক ছাউনির নির্মাণকাজ শেষ হলে বিলের মধ্যে কর্মরত কৃষকেরা বৃষ্টি, বজ্রপাত ও তীব্র গরমের সময় আশ্রয় ও বিশ্রামের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি জনদুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
বাণিজ্যিক
কার্যালয় : ৭৮/ই, পুরানা
পল্টন লেন বিজয় নগর,
ঢাকা-১০০০।
মোবাইল,ই-মেইল:
banglamatirnews@gmail.com