
মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিএপি সার মজুদ রেখে পরে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক সার ডিলারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার না করলেও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, বরাদ্দের সার থাকলে তা পরবর্তীতে বিতরণ করা হবে এবং কোনো কৃষক বঞ্চিত হলে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার শালবাড়ি স্কুল মোড় এলাকায় মেসার্স সার ঘরের ডিলার শান্তনু বিশ্বাসের গুদামের পাশ থেকে স্থানীয় কৃষকেরা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বস্তা ডিএপি সার দেখতে পান। এ সময় ডিলারের ম্যানেজার কার্তিক চন্দ্র ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরদিন তার বক্তব্য নিতে বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষক খোকন, মনোয়ার ও রাজু অভিযোগ করে বলেন, সার নিতে গেলে প্রায়ই জানানো হয় যে সার শেষ। অথচ পরে সেই সারই বেশি দামে বিক্রি করা হয়। তারা দাবি করেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও তাদের সন্দেহ রয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান মিলন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডিলারের ম্যানেজার সার মজুদ রেখে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা টিনের ফাঁক দিয়ে গুদামে ডিএপি সার দেখতে পান। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তিনি।
মেসার্স সার ঘরের ডিলার শান্তনু বিশ্বাস এর মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহিন ইকবাল বলেন, তিনি ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর কৃষি কার্ডসংক্রান্ত কাজে চলে আসেন। পরে সেখানে আর যাননি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, ডিলার পয়েন্ট থেকে লাইনে দাঁড়ানো কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দের কিছু সার গুদামে থাকলে তা পরে বিতরণ করা হবে। কোনো কৃষক সার না পেলে সরাসরি অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কৃষককে সার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিয়ামতপুরেই নয়, বর্তমানে সারা দেশেই সারের সংকট রয়েছে। তবে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।