
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকপুর এলাকায় বসতঘরে হামলা,ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার(১০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন,জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ নুসরাত জাহান অপির বসতঘরে পরিকল্পিতভাবে হামলা ও লুটপাট চালানো হলেও এখনো কার্যকর বিচার নিশ্চিত হয়নি।মামলার প্রধান আসামীসহ কয়েকজন দ্রুত জামিনে মুক্তি পাওয়ায় বাদী পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান অপি বলেন,গত ৭ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।কিন্তু মামলার কাগজপত্র হাতে পাওয়ার আগেই ৮ জানুয়ারি প্রধান আসামী সফিকুর রহমান মাস্টার জামিনে মুক্তি পান।এতে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়,সফিকুর রহমান মাস্টারের সঙ্গে নুসরাত জাহান অপির দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।গত ৫ জানুয়ারি তিনি নিজ বসতঘরে তালা দিয়ে বাবার বাড়িতে যান।পরদিন ৬ জানুয়ারি সকালে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন,একদল লোক তাঁর বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালাচ্ছে।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখতে পান,অভিযুক্তরা ঘরের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।বাধা দিলে তাঁকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা চলে যায়।পরে ঘর তল্লাশি করে দেখা যায়,আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল চুরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়,৬ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্তরা অনধিকার প্রবেশ করে বসতঘর ও ভবন ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এ সময় একটি এলইডি টিভি,ফ্রিজ,স্টিলের আলমারি,দেয়াল সুকেস,দুটি খাট, ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ প্রায় ২০ লাখ ৫৭ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,প্রভাবশালী মহলের কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হচ্ছে।দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।মানববন্ধনে প্রায় দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।উপস্থিত ছিলেন আক্তার হোসেন, জাহাঙ্গীর শিকদার,লাভলি আক্তার,জোসনা,মিনারা,মৌসুমী, আনুস শিকদার,রিপন মোল্লা,রাসেল চৌধুরী,মকবুল মোল্লা,নব মোল্লাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার এক কর্মকর্তা জানান,মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।