
মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও নেওয়া হয়নি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা। অন্যদিকে, জব্দ করা সরকারি চালের ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে অজ্ঞাত কারণে সেই প্রক্রিয়াও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি। এতে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাণীনগরের একটি গোডাউনে অভিযান চালায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ৩০ কেজি ওজনের ১৮ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। মোট চালের পরিমাণ ছিল ৫৪০ কেজি। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে গোডাউনটি রাণীনগর উপজেলা বিএনপির এক নেতার বলে উল্লেখ করা হয়।
এরপর সরকারি চাল জব্দের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ ও সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি-ধমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল রাণীনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদ নবী বেলাল ও বিএনপি সমর্থক মামুনের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চ্যানেল এস টেলিভিশনের সিনিয়র সাংবাদিক ও নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মেহেদী হাসান অন্তর এবং জাতীয় দৈনিক আমাদের অর্থনীতির সাংবাদিক সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় সাংবাদিকদের হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর নওগাঁ জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আজম টুটুল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অভিযুক্ত মাহমুদ নবী বেলালকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার জন্য চিঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে সাংগঠনিকভাবে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার ১৬ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সরকারি চাল জব্দের সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, চালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের পর মামলা করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কী কারণে মামলা করার প্রক্রিয়া থেমে আছে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিক মেহেদী হাসান অন্তর বলেন, সরকারি চাল জব্দের ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ, ভিডিও ধারণ এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কারণেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন মুরাদ ও নওগাঁ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি কিংবা লাঞ্ছিত করার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে, সাংবাদিকদের হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এবং সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
ঘটনার ১৬ দিন পরও সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও মামলা করার অগ্রগতি স্পষ্ট না হওয়ায় সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।#