
মোঃ মাইনুল ইসলাম,
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কৃষ্ণপুর মোগলবাসা রোডে আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আঞ্চলিক অফিস গত ২০ জুলাই’২০২৫ইং উদ্বোধন করা হয়। অফিসটির উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- কুড়িগ্রাম সদর থানার এএসআই মোঃ শওকত আলম সিদ্দিক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাহী সভাপতি মোঃ মাজেদ আলী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম খন্দকার এবং আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরনবী সরকার, আইন বিষয়ক সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মোছাঃ মরিয়ম বেগম, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশীষ নারায়ণ সরকার, নির্বাহী সদস্য আঃ সবুর মিয়া প্রমূখ।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মিনহাজুল ইসলাম মিলন জানায়, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের শাখাগুলো ১৪টি বিষয়ে মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শাখাগুলো যথাক্রমেঃ- জেলা, মহানগর, আঞ্চলিক, আইনজীবী সমিতি, উপজেলা, মহিলা, পৌরসভা, বাণিজ্যিক, থানা, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড শাখাসহ দেশে এবং বহির্বিশ্বের সকল শাখাগুলো উল্লেখিত ১৪টি বিষয়ে মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবসগুলো পালন শাখাগুলোর কর্মকান্ডের মধ্যে পরবে। নিম্নে কার্যক্রমগুলো দেওয়া হলঃ ১। প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার শাখা কমিটির মাসিক সভা আয়োজনকরণ। ২। শালিসী/আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান করণ (শালিসী অথবা আদালতের সহায়তায়)। ৩। বিপদগ্রস্ত নারী ও পুরুষকে বেআইনী আটক, নির্যাতন ও নিপীড়িন থেকে প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধারকরণ। ৪। দুর্বৃত্তদের আক্রমণে আহত নারী ও পুরুষদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। ৫। হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ ৬। খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল দেয়া বন্ধ করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ। ৭। আলোচনা সভা, র্যালী, কর্মশালা এবং সম্মেলনের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা এবং মানবাধিকার কার্যক্রমকে শক্তিশালীকরণ। ৮। দেশে-বিদেশে যে কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকরণ (শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, সভা এবং স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে) ৯। সমাজের সাদা মনের মানুষকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সদস্য করে তথা নিজ নিজ শাখাকে শক্তিশালীকরণ। ১০। বিশ্ব মানবাধিকার দিবস, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক ১৪টি দিবসগুলো পালন করা। ১১। প্রকাশনা, পোস্টার, ব্যানার, স্মরণিকা এবং লিফলেট প্রকাশের মাধ্যমে জনগণকে মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকান্ডে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ। ১২। রক্তদান কর্মসূচীর মাধ্যমে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা। ১৩। দেশের যে কোন দুর্যোগ যথাক্রমেঃ ঘূর্ণিঝর, জলোচ্ছ্বাস, মহামারী, অগ্নিকান্ড প্রমুখ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করা। ১৪। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান যথাক্রমেঃ পবিত্র ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ ধর্মীয় প্রধান অনুষ্ঠানগুলোতে দুঃস্থ মানুষদের সহায়তাকরণ। মানবাধিকার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে একদিকে মানবতাবাদী মানবাধিকার কর্মীগণ সমাজে মহান ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন, অপরদিকে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন দেশ-বিদেশে আরও শক্তিশালী। প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত হবে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ তাজুল ইসলাম খন্দকার জানায়, একজন প্রকৃত মানবাধিকার কর্মীর গুণাবলী? যে ব্যক্তি নিজে মিথ্যা বলেন না বা মিথ্যাকে প্রশয় দেন না। যিনি সৎ পথে উপার্জন করেন। যিনি কোন ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত থাকেন না বা ষড়যন্ত্রকারীকে সমর্থন করেন না। যে ব্যক্তি নিজে প্রতারণা করেন না বা বিশ্বাস ভঙ্গ করেন না এবং কাউকে প্রতারণা বা বিশ্বাস ভঙ্গ করতে সহায়তা করেন না। যিনি কাউকে নির্যাতন করবেন না বা নির্যাতনকারীকে ঘৃণা করবেন এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। কেবলমাত্র সে ব্যক্তিই একজন প্রকৃত মানবাধিকার কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। প্রতিহিংসাপরায়ণকারী ব্যক্তি কখনো মানবাধিকার কর্মী হতে পারেন না। উল্লেখ্য, ৩৮ বছর যাবৎ কর্মরত একজন মানবাধিকার কর্মী একটানা দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে বিরামহীনভাবে মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সেক্রেটারী জেনারেল ডঃ সাইফুল ইসলাম দিলদার। ১৯৮৩ সাল থেকে সরাসরি মানবাধিকার কার্যক্রমে তিনি যোগদানের পর ১৯৮৭ইং সালের ১০ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ঢাকা শহরের প্রতিষ্ঠিত ছোট এই প্রতিষ্ঠানটি হাটি হাটি পা পা করে আজ বিশ্বের মধ্যে একটি বড় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ নিয়েছে এবং মর্যাদা লাভ করেছে। বিশ্বের ৪১টি দেশে এর কার্যক্রমের বিস্তার ঘটানো ছাড়াও বর্তমানে দেশে- বিদেশে বিএইচআরসি-এর আড়াই সহস্রাধিক শাখা এবং সুশীল সমাজের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানবাধিকার কর্মী বিএইচআরসি-এর মাধ্যমে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মী ড. সাইফুল ইসলাম দিলদার তার এই ৩৮ বছরের কর্মজীবনে শত শত তদন্ত, সাংগঠনিক সভা-সম্মেলন দেশে ও বিদেশে আয়োজন করেন এবং যোগ দেন। এছাড়া বাংলাদেশের ভূ-খন্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগ্রামকে পরিহার করে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলনের এই মানবাধিকার কর্মী সাগর, নদী, পাহাড়, বন- জঙ্গল এমন কোথাও নেই যেখানে তার পদচারণা ছিল না। সাগরের ১০ নং সাইক্লোন সিগন্যালের সময়ও তিনি মানবতার কাজে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মকান্ড পরিচ