
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের টংঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ভুল চিকিৎসার কারণে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয় এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়,গত সোমবার টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার থানা সংলগ্ন হায়াত সুপার মার্কেটে টংঙ্গীবাড়ী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে এক গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।এ ঘটনায় বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন টংঙ্গীবাড়ীর এক তরুণ সাংবাদিক।পরবর্তীতে টংঙ্গীবাড়ী ক্লিনিকের এমডি আবু সাঈদ এর স্ত্রী আমেনা খাতুন সাংবাদিককে ফোনে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে অপদস্থ করার চেষ্টা করে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় ওই সাংবাদিক কে দেখে নেওয়া এবং মামলা করার হুমকি প্রদান করেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেদক জানায়,গত শুক্রবার স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় “ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী নারী ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যু”শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করলে ওই হাসপাতালের এমডি মো:আবু সাঈদ এর স্ত্রী আমেনা খাতুন ফোন দিয়ে অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন।
সাংবাদিকের পরিবারের দাবি,এ হুমকির কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এবিষয়ে টংঙ্গীবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো:মোজাফফর হোসেন শেখ বলেন,তথ্য প্রমাণ রেখে সংবাদ প্রকাশ করার পরেও একজন সাংবাদিক কে এভাবে হুমকি দিতে পারেন না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,গণমাধ্যমের কর্মীদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দেওয়া গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি।তারা অবিলম্বে হুমকিদাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনার ঝড় উঠেছে।অনেকেই বলছেন,একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ করলেই সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া প্রমাণ করে-ভুল চিকিৎসার ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এবিষয়ে আমেনা খাতুন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি কোন সাংবাদিকে হুমকি দেই নাই।