
ফারুক আহমেদ,সিরাজগঞ্জ:
ঈদের আর মাত্র দিন বাকী।তাই ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার কামাররা।কামারদের হাতুড়ির টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামের কামারপল্লী।হাপরের আগুন জ্বলছে সারাক্ষণ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে তৈরি হচ্ছে কোরবানীর পশু জবাই ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম দা,বটি,ছুরি,চাপাতিসহ ধান কাটার কাচি।
সরেজমিনে সলঙ্গা থানার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়,কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে নতুন দা-ছুরি তৈরি ও পুরোনো সরঞ্জামে শান দিতে কামারদের দোকানে ভীড় করছেন স্থানীয়রা।কেউ নতুন ছুরি বানাচ্ছেন, কেউ আবার পুরোনো বটি ও দা ধার করাচ্ছেন।
সলঙ্গা বাজার থানামোড়ের কামার জানান,“কোরবানীর ঈদকে ঘিরে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় আমাদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেও শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
চারা বটতলার এক কামার বলেন,“ঈদ আসলেই দা-ছুরি তৈরির অর্ডার বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”
উনুখাঁ বাজারের কামার জয়নাল জানান,বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন ধান কাটার কাচি ও পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম তৈরিতে বেশি ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।
ঘুড়কা বাজারের কামার সুবল দাস বলেন,“পুরোনো দা-ছুরি শান দিতে ১০০ টাকা নিচ্ছি। নতুন একটি ছুরি বিক্রি করছি প্রকারভেদে ১২০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত।”
ছুরি শান দিতে আসা ধুবিল মালতীনগর গ্রামের আব্দুর রহিম মাস্টার বলেন,“প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের আগে ছুরি ধার করাতে এসেছি। ধারালো সরঞ্জাম ছাড়া কোরবানির কাজ ঠিকমতো হয় না।”
নলকা মোড়ের কামার রহিজ বলেন,কাঁচামাল ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে তৈরি সরঞ্জামের দামও।সাহেবগঞ্জ বাজারের আরেক কামার বলেন,“আগের তুলনায় লোহা ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম অনেক বেড়েছে।তাই ভালো মানের দা-ছুরি বানাতে খরচও বেশি পড়ছে।”
সলঙ্গা বাজার কদমতলার কামার আ: সামাদ জানান,বর্তমানে লোহার মানভেদে চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা,দা ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা,পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা,বঁটি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চাপাতি ৬০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করছি।
কোরবানির ঈদকে ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এই কামারশিল্প।আধুনিক যন্ত্রপাতির যুগেও ঐতিহ্যবাহী কামারদের তৈরি সরঞ্জামের চাহিদা এখনও সমানভাবে টিকে আছে।