
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে এক বিবাহিত যুবক ও অবিবাহিত তরুণীকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মোঃ আপন (২৩)-এর সঙ্গে সদর ইউনিয়নের আব্দুল শেখের মেয়ে মোছাঃ হালিমার (১৯) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর আব্দুল শেখ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে জানা যায়, তারা পালিয়ে গিয়ে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। বিয়ের সময় উভয় পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না এবং এ বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়নি।
পলাতক অবস্থায় গত এক সপ্তাহ ধরে তারা সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শ্রী ভরত চন্দ্র রায়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে মেয়ের অবস্থান এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক।
অর্থের বিনিময়ে আপসের অভিযোগ
শুরুতে বিষয়টি ৭ লাখ টাকায় রফাদফার গুঞ্জন ছড়ালেও, গত ৯ জুলাই মধ্যরাতে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকায় আপস সম্পন্ন হয়। একটি অজ্ঞাত বাড়িতে আয়োজিত এই মীমাংসা সভায় স্থানীয় ইউপি সদস্য শ্রী ভরত চন্দ্র রায়, মোঃ আব্দুল মজিদ, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ সিরাজুল ইসলামসহ ছেলের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মেয়ের বাবার হাতে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
পিতার আহাজারি
মেয়ে ফিরে পেলেও মনের কষ্ট ভুলতে পারছেন না বাবা আব্দুল শেখ। তিনি বলেন, “নিখোঁজ হওয়ার পর আমার মেয়েকে হিন্দু ইউপি সদস্যের বাড়িতে রাখা হয়, যা আমি মেনে নিতে পারিনি। আমি কোনো অর্থ দাবি করিনি, চেয়েছিলাম আমার মেয়ের ভবিষ্যতের কোনো সমাধান হোক। আজ হাতে টাকা আর মেয়ে ফিরে পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমার মেয়ের যে ক্ষতি হলো, সেই বেদনা কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না।”
এ বিষয়ে ছেলের বাবা আব্দুল হাই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তার বড় ভাই আব্দুল হানিফ জানান, বিষয়টি পরে জানানো হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনাটির সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ইউপি সদস্য শ্রী ভরত চন্দ্র রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় তালবাহানা করে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মুসা মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”