
মেহেদী হাসান অন্তর, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিকাশ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী তাহমিনা সারমিনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযান চলাকালে বিকাশ স্থানীয় লোকজন জড়ো করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুস সাত্তারসহ অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মারধর করে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে ইউএনও কাজী তাহমিনা সারমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন।
পরে বিকাশ ও তাঁর স্ত্রী সরস্বতীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে দুপুরের খাবার শেষে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরবর্তী সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে বিকাশ ও তাঁর স্ত্রী নওগাঁ সদর হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হন। তবে তাঁদের গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তাহমিনা সারমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিকাশ নিজের নাম সুভাষ বলে পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেন। এ ছাড়া তিনি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ করেন, যা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
মো. আলমগীর হোসেন আরও বলেন, কর্মকর্তাদের হেনস্তা করা এবং স্থানীয় জনসমর্থন আদায়ের উদ্দেশ্যে বিকাশ এমন অভিযোগ তুলেছেন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কারও কাছ থেকে টাকা চাওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অনুসন্ধানে জানাগেছে, বিকাশের বিরুদ্ধে নওগাঁ ও বগুড়া জেলায় মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে মামলাগুলোর মধ্যে বগুড়া জেলার একটি থানায় ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে দায়ের করা মামলার জি.আর. নম্বর ২৬৮/২০২৪। এ ছাড়া নওগাঁর ধামইরহাট থানায় ২৯ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে জি.আর. মামলা নম্বর ১০৮/২০২৪, একই থানায় ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখের এফআইআর নম্বর ০৯ ও জি.আর. মামলা নম্বর ৮২৬/২০২৪ এবং ২৭ জুন ২০২৬ তারিখের এফআইআর নম্বর ৪২ ও জি.আর. মামলা নম্বর ২২৬/২০২৬-এর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ মামলার তথ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(২) ধারার উল্লেখ রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিকাশ ও তাঁর স্ত্রী সরস্বতীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।