
এস এম সোলায়মান গনি, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের কেকতীর পার এলাকায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে আবু বক্করের ছেলে ও কথিত পুলিশ সদস্য রাব্বির বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই রাব্বি বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছু দিন পূর্বে সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে ০৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুস সালাম এবং রাব্বির নেতৃত্বে প্রায় ৮-১০ জনের একটি দল আল-আমিন (২৭), শামীম মিয়া (৩৭) ও আনারুল ইসলাম (৪২)–কে অতর্কিতে হামলা করে। হামলায় রড, লাঠি, ইউক্যালিপটাসের ডাল এবং ক্ষুর ব্যবহার করা হয় বলে ভুক্তভোগীদের পরিবার জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে অটো মেকার মমিনুল ও ঝালাই দোকানদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মমিনুল জানান, প্রথমে সালাম মেম্বার গণ্ডগোল শুরু করেন এবং রাব্বির সহযোগীরা পরবর্তীতে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়।
ভুক্তভোগী আল-আমিনের পরিবারের অভিযোগ, রাব্বির নেতৃত্বে একটি গ্রুপ গত রমজানে ইফতার মাহফিল থেকে আল-আমিনকে তুলে নিয়ে বুড়ি তিস্তার পারে দুটি ধাপে মোট ১৭ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করে। এমনকি তাকে ‘বাবা’ বলে ডাকতে বাধ্য করা হয়—যা সামাজিকভাবে চরম অবমাননাকর।
চা দোকানদার আনারুল ইসলাম বাবু জানান, জীবন নামে একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে এক পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে পরে আবার রমজানে আল-আমিনকে তুলে নিয়ে পুনরায় মারধরের ঘটনা ঘটে। মাঝবিল বাজার সূত্রে জানা যায়, রানা নামে একজন ইউক্যালিপটাসের ডাল দিয়ে হামলা চালায়।
আহত শামীম মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অভিযুক্ত রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সুধীজন, সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মীরা রাব্বির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে। সরেজমিন তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করা হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”