
মাহাবুব আলম তুষার,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর ভূমি অফিসে দালালের মাধ্যমে জমির নামজারি (খারিজ) করাতে গিয়ে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অসহায় একটি হিন্দু পরিবারের একমাত্র সম্বল পাঁচ শতক জমির নামজারি করতে ওই টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নামজারি খতিয়ান সূত্রে জানা যায়, সিংগাইর মৌজার ৪৫৫৮ নম্বর দাগে পাঁচ শতক জমির নামজারির জন্য আবেদন করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য অঞ্জলি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর নামজারির আবেদন করার পর থেকে ভূমি অফিসে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। নায়েব ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা বিভিন্ন অজুহাতে জমিটি নামজারির অযোগ্য বলে তাকে বারবার ঘুরিয়েছেন বলে দাবি তার।
অঞ্জলি বলেন, একপর্যায়ে স্থানীয় পলাশ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি জমির কাগজপত্র দেখে নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রথমে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে টাকা কমানোর অনুরোধ করলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেন। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পরই নামজারি সম্পন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে পলাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এই জমি কেউ খারিজ করে দিত না। আমি ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়েই খারিজ করিয়ে দিয়েছি। বরং আমি তাদের উপকারই করেছি। টাকা কাদের দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ওই টাকা ভূমি অফিসেই খরচ হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিংগাইর পৌর ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা কোনো দুর্নীতি করি না এবং কোনো অতিরিক্ত টাকা নিই না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, নিজেদের একমাত্র সম্বল জমিটি হারানোর আশঙ্কা ও নামজারি সম্পন্ন করার প্রয়োজনেই তারা ধার-দেনা ও সুদে ঋণ করে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।