
মোঃ আবু হাসান আকন্দ নিজস্ব প্রতিবেদক।
গাজীপুরের টঙ্গী টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক এস এম মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবী ও আদায় করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
এই সব ঘটনায় পুলিশ সদরদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, গভীর রাতে বাসা থেকে নিরপরাধ মানুষকে তুলে নিয়ে হয়রানি করেন এস আই মেহেদী। তার চাহিদা মত টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানোর হুমকি দেন তিনি। সম্প্রতি এমন একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। হাজীর মাজার বস্তি, ব্যাংকের মাঠ, কেরানির টেক, মুদাফা এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে উঠেছেন তিনি। কিছুদিন পূর্বে বিশেষ অভিযানে কিছু ফেনসিডিল উদ্ধার করে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। এই অভিযানে সম্পৃক্ত না থেকেও স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে ব্যাংকের মাঠ ও কেরানির টেক বস্তির মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাদক মামলার পলাতক আসামি দেখানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন এই এস আই।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ব্যাংকের মাঠ বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অন্য থানার পুলিশ হয়েও সেই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন এস আই মেহেদী। এসময় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকেও মোটা অংকের টাকা দাবী করেন উপ পরিদর্শক মেহেদী হাসান। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সেই নারীকে মিথ্যা মামলায় সন্দেহ ভাজন আসামী হিসেবে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
স্থানীয়দের দাবী বাংলাদেশ পুলিশ ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করে গেলেও এই ধরনের অফিসারদের বিতর্কিত কর্মকান্ডে বার বার সমালোচনার মুখে পরছে।
টঙ্গী পূর্ব থানা সুত্রে জানা যায়, এস আই মেহেদী হাসান শুধু টাকার লোভী নন চরিত্রহীন লোক হিসেবেও পরিচিত। প্রেম করে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। সেই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে তাদের। এরপরও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে আরেক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে তাকে বিয়ে করছেন তিনি। ঠিক মত নিজের সন্তানদের খোঁজ খবর না নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এইসব বিষয়ে কথা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক মেহেদী হাসান বলেন, আমি বর্তমানে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ভাইরাল। অভিযোগ থাকতেই পারে আমি কাউকে ভয় পাই না।