
মোঃ আল-মুকিদ (মাহি)
তেজগাঁও কলেজ-ঢাকার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা এক গৌরবময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান,যার ইতিহাস যেমন প্রাচীন,তেমনি অর্জন সমৃদ্ধ। সময়ের সাথে সাথে এই কলেজ শুধু একাডেমিক নয়, আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি,বিতর্ক,নাট্যচর্চা ও সামাজিক কর্মে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।তেজগাঁও কলেজ অবস্থিত ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় (ইন্দিরা রোড), যা শহরের অন্যতম যোগাযোগ সুবিধাসম্পন্ন স্থান।পার্শ্ববর্তী কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা কলেজ (নিউমার্কেট),ইডেন মহিলা কলেজ (আজিমপুর),তিতুমীর কলেজ (মহাখালী) এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ (লক্ষ্মীবাজার) উল্লেখযোগ্য।
ইতিহাস ও যাত্রা শুরু:তৎকালীন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মাওলানা আবুল খায়ের ১৯৬১ সালের ২২ ডিসেম্বর “ঢাকা নাইট কলেজ” নামে এর সূচনা করেন।কয়েক দফা স্থান পরিবর্তনের পর ১৯৭১ সালের পর থেকে কলেজটি “তেজগাঁও কলেজ” নামে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায়।বর্তমানে এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি কলেজ।
একাডেমিক কাঠামো ও পরিসংখ্যান:তেজগাঁও কলেজে বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক,অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে পাঠদান চলছে।এখানে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী,২৫৭ জন শিক্ষক,৩০টির বেশি বিভাগ ও বিষয়।আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব,লাইব্রেরি,অডিটোরিয়াম ও বহুতল ভবন।
সাফল্য ও গৌরব: শুধু পাঠদান নয়,সহশিক্ষা কার্যক্রমেও কলেজটি দেশের সেরা গুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করে আছে।
প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা: ২০২১ সালে ICPC Asia Dhaka Regional চ্যাম্পিয়ন হয়ে তেজগাঁও কলেজের দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিশরে অংশ নেয়।
নাটক ও বিতর্ক: ২০১৭ ও ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক নাট্য প্রতিযোগিতা ও বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে।রক্তদানে অনন্য দৃষ্টান্ত:স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “বাঁধন”-এর মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ ব্যাগ রক্ত দান ও ৭,০০০ জনের রক্ত পরীক্ষা বিনামূল্যে সম্পন্ন করেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা।
র্যাঙ্কিং ও মূল্যায়ন: ২০১৬ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রথম র্যাঙ্কিংয়ে স্থান না পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সোচ্চার হয়েছিল। পরে যথোপযুক্ত উদ্যোগ ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে কলেজটি ২০১৮ সালে ঢাকা অঞ্চলে ৪র্থ এবং ২০২১ সালে সারা দেশের মধ্যে ১২তম অবস্থানে উঠে আসে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কলেজ কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার,ইংরেজি মিডিয়াম সেকশন,এবং স্কলারশিপ কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছে।শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্য পৃথক সেলও চালু হচ্ছে।
বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ আল-মুকিদ (মাহি) বলেন,তেজগাঁও কলেজ এখন শুধু কলেজ নয়,এটা আমাদের দ্বিতীয় পরিবার।এখানে প্রযুক্তি,সংস্কৃতি ও নৈতিকতা-সবই শেখা যায়।রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তেজগাঁও কলেজ আজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়,বরং এক ‘আলোকবর্তিকা’। ইতিহাস,ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। তেজগাঁও কলেজ তার ঐতিহ্য,অবস্থান এবং একাডেমিক ও সহশিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে ঢাকার অন্যতম সেরা কলেজে পরিণত হয়েছে।এটি শিক্ষার্থীদের কাছে একটি প্রগতিশীল ও আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতীক।