
মাহাবুব আলম তুষার ,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর এলাকায় মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় মো:মেহেদী হাসান (৩১) নামে এক যুবককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলাম (৪৮), তাঁর ছেলে সিয়াম (১৯), রাকিব (২০), ইলিয়াছ (১৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। আহত মেহেদীকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর মামলা না করার জন্য তাঁকে ও তাঁর বন্ধুদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে কাটিগ্রাম থেকে মোটরসাইকেলে তার নিজ বাড়ি নওগাঁও ইউনিয়ন সুতিপাড়া ধামরাই ফেরার পথে ভগবানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মেহেদীর পথরোধ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাঁর মাথায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে লোহার রড, বাঁশ ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁর মাথায় চারটি সেলাই দেন। বর্তমানে সে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন, হামলার পরও তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহিদুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন। আইনগত পদক্ষেপ নিলে তাঁকে ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মেহেদী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে শহিদুল ইসলাম ঘটনার বিষয় ও ঘটনার স্থানে না থাকার বিষয় উল্লেখ করেন।পরবর্তী সময়ে সাক্ষাৎকার চলাকালে তাঁর আচরণ উগ্র উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীকে মারধরের নির্দেশ দেওয়ার বিষয় স্পষ্ট করেন এবং তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেন।তিনি বলেন তাদেরকে মামলা করতে বলেন মামলা করলে কি হবে । আমাদের ক্ষমতা কি কম নাকি । গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তাঁর এমন আচরণ ও বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরে তিনি ঘটনার সঙ্গে তাঁর ছেলে ও ভাতিজাদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা বলেন। তাঁর দাবি, প্রায় দেড় মাস আগে মেহেদী আত্মীয় তাঁর এক ভাতিজাকে মারধর করেছিলেন। সেই বিরোধের জের ধরে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন। এ ছাড়া মেহেদী ও তাঁর বন্ধু জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ করেন শহিদুল। তবে মেহেদীর কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ বলেন, দলের কোনো নেতা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, ছিনতাই বা উগ্রতার সঙ্গে জড়িত থাকলে দল তা সমর্থন করে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় এক বছর আগে অবৈধভাবে মাটি কাটার ব্যবসা পরিচালনার সময় তাঁর মাটিবাহী ট্রাকের চাপায় সংখ্যালঘু পরিবারের এক বৃদ্ধা নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।