
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নে ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,রাতের আঁধারে একাধিক ড্রেজার দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ও খাল ভরাট করা হচ্ছে। এতে আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়ার পাশাপাশি এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে,বাসাইল হারিচ চৌকিদারের বাড়ির পাশের খালে একটি,বাসাইল বাজারের উত্তর ও পূর্ব পাশে দুটি, সতুরচরে সজিবের বাড়ির পূর্ব পাশে তার জমি সংলগ্ন খালে একটি,ব্রজেরহাটি-মালশাভাঙ্গা ব্রিজের নিচে একটি, চরবিশ্বনাথে সবির মাস্টারের বাড়ির পূর্ব পাশে আলী বাবুর্চির মেয়ের জামাইয়ের জমিতে একটি, পাথরঘাটা-গয়াতলা সড়কের পাশে একটি এবং গুয়াখোলা গ্রামে একটি-এভাবে অন্তত আটটি ড্রেজার দিয়ে নিয়মিতভাবে বালু ভরাটের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,কয়েক দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দেয়।তবে স্থানীয়দের দাবি,পরদিন থেকেই আবারও একইভাবে বালু ভরাট শুরু হয়।প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করার পরও কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় কথিত ভূমিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা বলছেন,বালু বহনকারী জাহাজগুলো সিরাজদিখানের ইছামতি খালের গিরিগঞ্জ ও উত্তর রাঙ্গামালিয়া খাল হয়ে বাসাইলসহ উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করে।এসব নৌপথে রাতের বেলায় নজরদারি জোরদার করা গেলে অবৈধভাবে বালু পরিবহন ও ফসলি জমি ভরাট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে,বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৭ক অনুযায়ী উর্বর কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি নষ্ট করা এবং পরিবেশ বা প্রতিবেশের ক্ষতি করে মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ। ফলে কৃষিজমি রক্ষায় আইনটির যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,অপরিকল্পিতভাবে ফসলি জমি ভরাট অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষিজমি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।এতে শুধু কৃষক নয়, সামগ্রিকভাবে এলাকার পরিবেশ ও খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই সিরাজদিখান উপজেলা প্রশাসন,সহকারী কমিশনার (ভূমি),পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ ড্রেজার ও বালু ভরাটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।একই সঙ্গে ইছামতি খাল, গিরিগঞ্জ ও উত্তর রাঙ্গামালিয়া খালসহ বালুবাহী নৌযান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রাতের বেলায় নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য,ফসলি জমি রক্ষা শুধু কৃষকের স্বার্থের বিষয় নয়;এটি এলাকার পরিবেশ,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা,খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার বিষয়।তাই অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।