
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি (আর আরএম ইপি) প্রকল্পে কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রকৌশলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কারী হাবিবুর রহমানের ও শাহাজান সিরাজের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২৬ তারিখ উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে আর আরএম ইপিপ্রকল্পের আওতায় নারী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে যান গুনাইগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কারী হাবিবুর রহমান ও তার অনুসারীরা। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথাকাটা কাটির একপর্যায়ে কারী হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি উপজেলা প্রকৌশলীর ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ভুক্তভোগী উপজেলা প্রকৌশলী জানান, “সরকারি নিয়মকানুন ও নীতিমালার আলোকেই আর আরএমইপি প্রকল্পের কর্মী বাছাই ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছিল। কিন্তু কারী হাবিবুর রহমান নিজ পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অবৈধ চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় তিনি ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা আমার ইউপি অফিসে ঢুকে আমাকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কারী হাবিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদ জানাতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে কেবল বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে, কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি।”
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো: শওকত আলী জানান, আমি এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম আরিফ জানান বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক আমি এমন আশা কখনো করিনি আশা করি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সমাধান করবেন আর সমাধান না হলে আইনি ব্যাবস্থা সহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।