
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এ ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে মনির হোসেনকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ।পুলিশের দাবি,জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ১৭ জুলাই দিবাগত রাতে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর লেকু মার্কেট এলাকায় অবস্থিত বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত ২২ জুলাই যুবদল কর্মী আব্দুস সালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন।
মামলার পর ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ।তদন্তের ধারাবাহিকতায় একই দিন নাহিদ হাসান (২৩) ও ওসমান গনি (২৪) নামে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় বলে জানিয়েছে।পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মনির হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশ জানায়,ঘটনার পর থেকে মনির হোসেন আত্মগোপনে ছিলেন।পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে বালুচরের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।কারণ,যে কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে,সেটি বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়।আর এ ঘটনায় আটক মনির হোসেন ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে।
এ বিষয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, “কারও ইন্ধনে হয়তো এমন কাজ করেছে।তবে কী কারণে করেছে, তা পুলিশ তদন্ত করে বলতে পারবে।
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন বলেন, “কারও ইন্ধনে হয়তো এমন কাজটি করেছে।তবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।রাজনৈতিক কার্যালয় কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর জায়গা নয়।ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত।
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত আছি।বিএনপি নেতার ছেলে হোক বা অন্য কেউ হোক-এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক,তার শাস্তি হওয়া উচিত।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আলাউদ্দিন বলেন, “বিএনপি কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটক মনির হোসেন বুধবার আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।তবে বিস্তারিত বিষয়টি পরে জানানো হবে।
অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপি নেতার ছেলের নাম আসায় বালুচর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজার,চায়ের দোকান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।