
স্টাফ রিপোর্টার
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মুন্সীগঞ্জে মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে জেলা বিক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনকাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তাঁরা বলেন,মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনের মতো ধর্মীয় ও মানবিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী বীর সন্তানদের প্রতি অসম্মানজনক।
বক্তারা বলেন,বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।তাঁদের অসীম সাহস,ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার জন্য যাঁরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন,তাঁদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার নৈতিক দায়িত্ব।একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ের মতো সংবেদনশীল মুহূর্তে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তাঁরা আরও বলেন,মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করা মানে দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা প্রদানের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
কর্মসূচি থেকে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে যেন এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়,সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মানববন্ধন,বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা,তাঁদের সন্তান এবং সচেতন নাগরিকেরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান,মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।