মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে এক নারীসহ চারজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ভুক্তগীদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।রবিবার (১৯ অক্টোবর)বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চরবয়রাগাদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন,চরবয়রাগাদি গ্রামের বাসিন্দা নাছিমা বেগম (৩৬),তাঁর ভাই গোল হোসেন(৩৪),আবুল হোসেন(৩০) ও চাচা আবদুর জব্বার হাজী(৬৫)।আহতদের মধ্যে নাছিমা বেগমকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,প্রায় পাঁচ বছর ধরে চরবয়রাগাদি গ্রামের গোল হোসেনদের সঙ্গে একই গ্রামের প্রভাবশালী রব মোল্লাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল।ওই বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে।তিন মাস আগে গোল হোসেনরা তাঁদের বসতবাড়িতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।রব মোল্লারা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাধা দেন,ফলে সে সময় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
রোববার সকালে পুনরায় ঘর নির্মাণ শুরু করলে রব মোল্লা ও অলি শেখের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গোল হোসেনদের বাড়িতে হামলা চালায়।এ সময় দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি,মারামারি শুরু হয়।সে সময় রব মোল্লাদের মাধরে নাছিমা বেগমসহ তাদের পক্ষের চারজন আহত হন।এ ঘটনায় রব মোল্লাও মারধরের শিকার হন।তবে গোল হোসেনদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে মালামাল লুটে নেওয়া হয়।
আহত নাছিমা বেগম বলেন,আমার বাবার বাড়ির সব কিছু লুটপাট করেছে রব মোল্লারা।আমার মাথা ও পায়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আমাদের গাড়ি থামিয়ে মারধরের চেষ্টা করে রব মোল্লার লোকজন। কোনোরকমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছি।
দুপুরে আহত অবস্থায় নাছিমা বেগম নামে এক নারীকে ভর্তি করা হয়েছে।তাঁর মাথা ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
ভুক্তভোগী গোল হোসেন বলেন,রব মোল্লা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।আমাদের জমি দখল নিতে বারবার হুমকি দিয়েছে।আদালতের মামলায় সাক্ষ্য আমাদের পক্ষে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রব মোল্লারা হামলা চালিয়েছে।আমরা ন্যায়বিচার চাই।অভিযোগের বিষয়ে রব মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ভাগিনা আরিফ ফোন ধরেন।
আরিফ বলেন,তাঁর মামাদের বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ মিথ্যা।বরং আমার মামাকে মারধর করা হয়েছে।তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সকালে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান।অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।










