
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মাদকাসক্ত ছেলেকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরে পাশেই বসে ছিলেন বাবা।সোমবার(১ সেপ্টেম্বর)সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ায় এঘটনা ঘটে।পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং লাশ উদ্ধার করে মন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,ওই এলাকার অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা আবুল হোসেনের(৭০)ছেলে অহাদ(২৮)দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল।একারনে প্রায় সময়ই টাকার জন্য সে তার বাবার উপর অত্যাচার করতো।অতিষ্ট হয়ে আবুল হোসেন ছেলেকে নারায়নগঞ্জের একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা করান।প্রায় এক বছর আগে সে সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে আসে।কিছুদিন ভাল থাকলেও ফের আগের মতো শুরু করে।
আবুল হোসেনের ৪ মেয়ে ও ১ ছেলে।প্রায় ৪ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যায়।মেয়েদেরও বিয়ে হয়ে গেছে।তিনি ও ছেলে আহাদ বাড়িতে বসবাস করতো।আহাদ মাদকাসক্ত হওয়ায় বাবা আবুল হোসেন তার অনেক অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতো। মাদকের টাকা না পেলেই সে বাবাকে মারধর করতো।ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে ফেলতো।গত দুই সপ্তাহ আগে অতিষ্ট হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।পুলিশ তদন্তে এসেছিল।সোমবার সকালে আহাদ তার বাবার কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবী করে।টাকা না পেয়ে সে চাকু নিয়ে বাবা আবুল হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসলে বাবা আবুল হোসেন ছেলের কাছ থেকে চাকু কেড়ে নিয়ে তার বুকে ও পেটে আঘাত করে।এতে ঘটনাস্থলেই আহাদ মারা যায়।আহাদ মারা যাওয়ার পর বাবা আবুল হোসেন ছেলের লাশের পাশেই বসে ছিলেন।পরে প্রতিবেশীরা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ এসে আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও আবুল হোসেনের প্রতিবেশী সুমন খান জানান,আবুল হোসেন এলাকায় নিরিহ লোক হিসাবে পরিচিত হলেও ছেলের কারনে তিনি মুখ দেখাতে পারতেন না।প্রায় সময়ই ছেলে তাকে মাদকের টাকার জন্য মারধর করতো।আমরাও তার ছেলেকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি।কিন্তু ছেলে কারো কথাই শুনতো না।
শ্রীনগর থানায় উপস্থিত হয়ে আবুল হোসেনের চার মেয়ে জাহানারা বেগম,শাহিনুর আক্তার,সীমা ও সুমা বলেন,তাদের ভাই আহাদের অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন বাবা আবুল হোসেন।পুরো পরিবার বিষয়টি নিয়ে অতিষ্ট।তারা বৃদ্ধ বাবার যাতে কোন কষ্ট না হয় সেই চেষ্টা করবেন বলে জানান।
শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বাবা আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ছেলে আহাদের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।