
মোঃ রাজু মিয়া বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সবমিলিয়ে এখন ফিরোজার মাসিক আয় প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা। এখন তিনি তো ভালো আছেনই সেইসঙ্গে তার কাজের মাধ্যমে আরও কয়েকজনের আয়ের পথও হয়েছে।
ফিরোজা আক্তার, একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে আজ রিকশা গ্যারেজের মালিক। তার আছে ১০০ রিকশা, যেগুলো ভাড়ায় চলে। আছে খাবারের হোটেল। বছর দশেকের মধ্যেই তার জীবনযাত্রায় এসেছে বড় পরিবর্তন। এটি ফিরোজা আক্তারের কঠোর পরিশ্রম এবং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তেরই বহিঃপ্রকাশ।
ফিরোজা লেখাপড়া করতে পারেননি। মাত্র তেরো বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। স্বামী ছিলেন রিকশাচালক, তাদের মতোই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পৈতৃক বাড়িঘর, জমিজমা কিছুই ছিল না। রিকশা চালিয়ে যা আয় হতো তা দিয়ে পরিবারের সবার দায়িত্ব একাই সামলাতেন।
সংসারের আয়-উন্নতি করতে দুজনেই কাজ করবেন এই আশায় ২০১৩ সালে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর সঙ্গে ফেনী শহরে চলে আসেন ফিরোজা। ভাড়া বাসায় শুরু হয় নতুন সংসার।
তিনি সবসময় চেষ্টা করতেন কীভাবে আরও ভালো থাকা যায়। এজন্য আশেপাশের অন্যরা কী করে তার দিকে সবসময় খেয়াল রাখতেন। মানুষের কাছে পরামর্শ নিতেন। কিন্তু কিছু করতে চাইলে পুঁজি লাগে। তার তো জমানো টাকা নাই। টাকা সহজে পাওয়া যায় মহাজনের কাছে, কিন্তু সেখান থেকে টাকা নিতে গেলে চড়া সুদ দিত হবে। তাই ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন।
পরিচিত একজন রিকশাচালক ভাই তাদেরকে জানিয়েছিলেন যে, ব্র্যাক থেকে সহজ উপায়ে ঋণ নেওয়া যায়। ফিরোজা দেরি করেননি। ব্র্যাক অফিসের ঠিকানা জোগাড় করে একদিন চলে গিয়েছিলেন সেখানে। এরপর ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি থেকেই নেন প্রথম ঋণ, পঁচিশ হাজার টাকা।
সেই টাকা দিয়ে দুটি পুরাতন রিকশা কেনেন। একটি তার স্বামী চালানো শুরু করলেন, অন্যটি ভাড়া দিলেন। স্বামীর আয়ে সংসার চালাতেন আর ভাড়া রিকশার টাকায় ব্র্যাকের কিস্তি পরিশোধ করতেন। এটাই ছিল তার সহজ হিসাব।
প্রথম ঋণ পরিশোধ করে তার আস্থা বেড়ে যায়। এরপর নেন চল্লিশ হাজার টাকা। আবার রিকশা কেনেন। এভাবে ঋণ নেওয়া আর রিকশা কেনা তার এখনও চলছে।
ফিরোজার তিন ছেলেমেয়ে এখন বড় হয়ে গেছে। মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে মায়ের সঙ্গে হোটেল দেখাশোনা করে, ছোট ছেলে পড়ালেখা করছে।
ভবিষ্যতের সঞ্চয়ও কম নয়, গাইবান্ধায় গ্রামের বাড়িতে ৪২ শতক জমি কিনেছেন, বানিয়েছেন টাইলস দিয়ে পাকা বাড়ি।
ফিরোজা তার গ্যারেজের পাশে নতুন করে হোটেল ব্যবসা চালু করেছেন। যারা রিকশা ভাড়া নেয় তাদের অনেকে এই হোটেলে খাওয়াদাওয়া করেন। ফিরোজা নিজেই সেই হোটেলের হেড বাবুর্চি।