
মোঃ রাজু মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ‘উপজেলা প্রশাসন পাবলিক লাইব্রেরি’ জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে। প্রতিদিন এই পাঠাগারটিতে পাঠকরা আসছেন বই পড়তে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সকল শ্রেণির পাঠকদের জন্য।
এক সময় এই চিলমারী বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। বাংলার আটটি বৃহৎ নদীবন্দরের অন্যতম ছিল চিলমারী বন্দর। ভারতের কোচবিহার, আসাম, মেঘালয় এবং চীন ও মিয়ানমার থেকে আসত পণ্যবাহী জাহাজ। আসাম ও কলকাতা রুটের মাঝে নৌ যোগাযোগের বিরাট এ চিলমারী বন্দর। পাটের জন্যও বিখ্যাত ছিল চিলমারী বন্দর। এই বন্দরে পাটের কারবার শুরু হয় ত্রিশের দশকে। এসময় জুট ট্রেডিং কোম্পানিসহ প্রায় ৩০টি পাটকল ও কোম্পানি এখানে কারবার জুড়ে বসে। “ওকি গাড়িয়াল ভাই হাকাও গাড়ী তুই চিলমারীর বন্দরে” বিখ্যাত ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের স্মৃতি বিজড়িত সেই চিলমারীতে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি পাঠাগার চালু করা হয়েছে। এবারে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ কে সাধুবাদ জানিয়েছেন বই প্রেমিরা। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছুটছেন পাঠাগারে। এই প্রথমবারের মতো এমন ভাবে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চিলমারীর লাইব্রেরীটি। ছড়াচ্ছে জ্ঞানের আলো।
পাঠাগারটি সপ্তাহে শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকলেও অন্যদিনগুলোতে সকাল নয়টা থেকে বিকেল চার পর্যন্ত এই লাইব্রেরিটি সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। পাঠাগারে বই প্রেমিরা বিভিন্ন নিজেদের পড়ার বই উপহার দিচ্ছেন। তবে শুরু বেশকিছু বই নিয়ে পাঠাগারটির কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে বইয়ের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
বই পড়তে আসা ৭ম শ্রেণির ছাত্রী মোছা. জাহিন বলেন, আমরা এর আগে এমন পাঠাগার দেখি নাই। আমরা এখানে সাচ্ছন্দ্যে বই পড়তে পারি। চেষ্টা করি অবসর সময় পেলে প্রায় প্রতিদিন আসার।
কলেজ পড়ুয়া শাহানাজ, সুমি বলেন, আমরা বান্ধবীরা মিলে সময় পেলে লাইব্রেরীতে বই পড়তে চলে আসি। যদিও এখানে নতুন অবস্থায় বইয়ের সংখ্যা কম। আমরা চাই এই লাইব্রেরিতে আরও বই রাখতে।
দশম শ্রেণির তিন বন্ধু হাসিব, সোহরাব ও মিজানুর বলেন, এই লাইব্রেরিতে আরও বই লাগবে। পাশাপাশি পত্রিকার ব্যবস্থাও করা দরকার। দেশের বিখ্যাত সব ব্যক্তিদের বই থাকলে আমরা আরও অনেক কিছু শিখতে ও জানতে পারব।
পাঠাগারটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি উদ্বোধন করেন। এই লাইব্রেরিটি উপজেলা পরিষদ এর ভিতরে দোতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায়। সেখানে দুটি কক্ষে চলে পাঠাগারটি কার্যক্রম। ছেলে ও মেয়েদের জন্য রয়েছে দুটি আলাদা কক্ষ। তাই নয় এটি পরিচালনা করতে বেসরকারিভাবে লাইব্রেরিয়ান পদে একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য সম্মানি দেয়া হয়।
এমন ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাঠাগারটির বাস্তব রুপ দেয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। বহুবছর পর উন্মুক্ত বই পাঠ করার সুযোগ করে দেয়ায়। এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন পাঠক, পাঠিকাসহ সুশিল সমাজের মানুষ।
কলামিস্ট ও সংগঠক নাহিদ হাসান বলেন, বহুবছর ধরে চিলমারীবাসী এমন একটা লাইব্রেরির স্বপ্ন দেখে আসছি। এত সুন্দর একটা পড়াশুনার জায়গা হওয়ায় চিলমারীবাসী হিসেবে আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে কৃতজ্ঞ।
উপজেলা প্রশাসন পাবলিক লাইব্রেরীর লাইব্রেরীয়ান সুমিত্রা রানী জানান, লাইব্রেরী উদ্বোধনের পর থেকেই এখন প্রতিদিন পাঠকরা আসেন বই পড়তে। তবে পাঠকের মধ্যে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। আপাতত বইয়ের সংখ্যা সীমিত তবে, ইউএনও স্যার কে জানিয়েছি তিনি আরও কিছু বই দেবেন। লাইব্রেরিটি শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকে। বাকী দিন গুলোতে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে বলে জানান।