
স্টাফ রিপোর্টার
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে নাগরিকদের ভূমিসহ নানা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা রয়েছে।নির্ধারিত সরকারি ফি ও নিয়ম মেনেই এসব সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদার (নায়েব) বুলবুল হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে নামজারি ও বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে আসা সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও আদায়ের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নামজারিসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গেলে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে।অভিযোগ রয়েছে,দাবি করা অর্থ দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলে সেবাপ্রার্থীদের নানা অজুহাতে ঘোরানো বা হয়রানি করা হয়। পরবর্তীতে তশিলদারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন।
স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ভূমি অফিসে গিয়ে দ্রুত সেবা নিতে চাইলেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
রাজানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো:হাবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার একটি নামজারি জরুরি ছিল। এ কারণে ভূমি অফিসে গেলে তার কাছে প্রথমে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি ৭ হাজার টাকা দেন। এরপর নামজারির কাজ দ্রুত করে দেওয়ার কথা বলে আরও ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাবুল হোসেন আরও বলেন,সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা পাওয়া কঠিন। তার দাবি, নামজারির সরকারি ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা হলেও সেখানে নামজারি করতে ১২ হাজার টাকার কমে কাজ হয় না; অনেক ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি অর্থ নেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ভূমিসেবা পেতে হয়রানিরও শিকার হচ্ছেন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজানগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদার (নায়েব) বুলবুল হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, “আমি কারও কাছ থেকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করিনি। যে ব্যক্তি আপনার কাছে অভিযোগ করেছে, তাকে আমার কাছে নিয়ে আসুন।”
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্তের পরই সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।