
মেহেদী হাসান অন্তর,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ঘুষ গ্রহণ ও দাবির যে অভিযোগ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এএসআই মো. আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, আটক সঞ্জয় সরকারের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় সরকার (বা সঞ্জয় মণ্ডল) ও বিকাশ মণ্ডল নামে দুজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
এই ঘটনার পর সঞ্জয়ের স্ত্রী শ্রীমতি স্মৃতি অভিযোগ করেন, অভিযানে গিয়ে এএসআই মো. আব্দুল মোমিন তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন এবং আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। এমনকি প্রতিবন্ধী সন্তানের মাথায় হাত রেখে শপথ করিয়ে টাকা চাওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি অডিও ফোনালাপও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ফোনালাপের অপর প্রান্তের ব্যক্তি এএসআই মোমিন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘুষের অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে এএসআই আব্দুল মোমিন বলেন, “অভিযান বানচাল এবং মাদক ব্যবসায়ীকে রক্ষা করতে না পেরে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও ফাঁসানোর জন্য এই সাজানো নাটক তৈরি করা হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ দাবির ঘটনা ঘটেনি।” তিনি আরও দাবি করেন, সঞ্জয় একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং তার বিরুদ্ধে এক ডজনের মতো মামলা রয়েছে।
থানা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/ক্রিমিনাল রেকর্ড (পিসিপিআর) সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে দেখা যায়, আটক সঞ্জয় সরকার (পিতা: মৃত বিমল সরকার, গ্রাম: জগপাড়া)-এর বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় ২০০৬, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৯ এবং ২০২২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক নিয়মিত মামলা ও অভিযোগপত্র রয়েছে।
নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘুষের কোনো অভিযোগের বিষয়ে তাদের দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়নি। তবে অভিযানে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলায় অভিযুক্তদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দল দুজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে নিয়ে এলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়। তবে অভিযানে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।